Friday, July 26, 2019

এবার ‘সেভেন আপ’ খেল রিয়াল

 

‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—দিনটি কেমন যাবে তা সকাল দেখলে বোঝা যায়। জিনেদিন জিদানের সম্ভবত এ প্রবাদবাক্যে বিশ্বাস নেই। প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে কাল রাতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ‘সেভেন আপ’ খেয়ে উড়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। যে প্রতিবেশীদের এক সময় খাটো করে দেখত রিয়াল, তাদের কাছেই হজম করেছে সাত-সাতটি গোল। অথচ এমন হারের পর রিয়াল কোচ জিদান বললেন, ‘আগামী মৌসুমে আমরা ভালো করব। এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো। জিদানের মতো কিংবদন্তির তা একটু বেশি থাকলেও রিয়াল সমর্থকদের ক্ষতি নেই। টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন রিয়ালকে। আর নিউ জার্সিতে আজকের ম্যাচটাও ছিল নতুন মৌসুম শুরুর আগে প্রীতি টুর্নামেন্টের। কিন্তু গুরুত্ব যত কমই থাক হারের ব্যবধান ৭-৩ হলে ধাক্কা লাগেই। ভক্তদের জন্য মেনে নেওয়াও কষ্টের। অ্যাটলেটিকোর কাছে এ গোল ব্যবধানেই বিধ্বস্ত হয়েছে রিয়াল।

১০ গোলের এ ম্যাচে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ শুধু ফুটবলীয় লড়াইয়ে হয়নি খেলোয়াড়দের মধ্যেও ঘটেছে। ম্যাচটি না দেখে থাকলে গ্যারি লিনেকারের টুইট পড়লেই বুঝে নেওয়া যায়, এ ম্যাচের নায়ক কে। ইংল্যান্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড ও বর্তমানে এ ফুটবল বিশ্লেষকের টুইট, ‘রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে একাই চার গোল করে লাল কার্ড দেখা শুধু ডিয়েগো কস্তার পক্ষেই সম্ভব।’

হ্যাঁ, একাই চার গোল করেছেন কস্তা। শুরু করেছিলেন ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে। বেনফিকা থেকে উড়িয়ে আনা হোয়াও ফেলিক্সের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথমার্ধেই রিয়ালের রক্ষণ তছনছ করেছেন কস্তা। ম্যাচে ঘড়ির কাঁটা এক মিনিট না ছুঁতেই ফেলিক্সের কাছ থেকে পাস থেকে গোল করেন এ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে খেলা কতটা একপেশে ছিল তা বুঝিয়ে দেবে পরিসংখ্যান। কস্তার হ্যাটট্রিকসহ প্রথমার্ধে মোট পাঁচ গোল হজম করেছে রিয়াল। এর মধ্যে ২৮ মিনিটের মধ্যে হজম করেছে চার গোল।

বেনফিকা থেকে ১২৬ মিলিয়ন ইউরোয় অ্যাটলেটিকোয় যোগ দেওয়া ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফেলিক্স মাদ্রিদের ক্লাবটির হয়ে গোলের খাতা খুলেছেন ৮ মিনিটে। সতীর্থদের দিয়েও আরও দুটি গোল করিয়েছেন সম্ভাবনাময় এ তরুণ। বিরতির পর ৫১ মিনিটে চতুর্থ গোলটি পেয়ে যান কস্তা। ঠিক তার ১৪ মিনিট পরই গোল বাঁধে মাঠে। ৬৫ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর থমাস লেমারকে কড়া ট্যাকল করেন দানি কারবাহল। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর হাতাহাতিও হয়েছে দুই দলের মধ্যে। পরিস্থিতি শান্ত করতে অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনেও বেরিয়ে এসেছিলেন ডাগ আউট থেকে। কিন্তু লাল কার্ড এড়াতে পারেনি দুই দলই। কারবাহল ও কস্তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

রিয়ালের হয়ে প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়েছিলেন এডেন হ্যাজার্ড। সান্ত্বনাসূচক তিনটি গোলই তারা পেয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৯ মিনিটে দুর্দান্ত ক্রসে নাচোকে দিয়ে গোল করিয়েছেন হ্যাজার্ড। নির্ধারিত সময় শেষের কয়েক মিনিট আগে জ্বলে উঠেছিলেন জিদানের শিষ্যরা। ৮৫ থেকে ৮৯—এই ৫ মিনিটের মধ্যে রিয়ালকে দুই গোল এনে দেন করিম বেনজেমা ও স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হ্যাভিয়ের হার্নান্দেজ।

ইউরোপের বাইরে দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর এটাই প্রথম মুখোমুখি হওয়া। সে লড়াইয়ে ‘সেভেন আপ’ হজমকে সামনের আসল (নতুন মৌসুম) লড়াইয়ের প্রেরণা হিসেবেই দেখছেন রিয়াল কোচ জিদান, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা উদ্দীপ্ত হলাম। হ্যাঁ আজকের ফলে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি না কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে মনে করি আমার এমন একটা দল আছে যারা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে। তবে তারা সাত গোল করেছে, এটা হতে পারে না। কিন্তু প্রাক-মৌসুম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ সব জায়গাতেই আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এ নিয়ে এর বেশি আর কিছুই বলার নেই।’

প্রাক-মৌসুমের এ প্রস্তুতিতে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছে রিয়াল। এরপর আর্সেনালের সঙ্গে দুই গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতেছে দলটি। অ্যাটলেটিকোর কাছে বড় ব্যবধানের হারে নিশ্চয়ই সতর্ক হবেন জিদান। তবে মার্কো এসেনসিও এবং লুকা জোভিচের চোট ভাবাচ্ছে রিয়াল কোচকে। ১৭ আগস্ট লা লিগার নতুন মৌসুম শুরুর আগে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে রিয়াল।

No comments:

Post a Comment