Monday, July 29, 2019

অভিনেতা সৌমিত্র আর অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা

 

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেন

সৌমিত্র ও অপর্ণার

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেনভারতের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, বিহার আদালতে মামলাটি করেছেন সুধীর কুমার ওঝা নামের একজন আইনজীবী। চলচ্চিত্রের এই দুই বরেণ্য তারকার পাশাপাশি দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। এই তালিকায় রয়েছেন শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপ, মণিরত্নম। দেশদ্রোহের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং দেশের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারতজুড়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও গণপিটুনি বন্ধের দাবিতে এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর প্রতিবাদে দেশের ৪৯ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বরাবর চিঠি দেন। এরপর তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।সুধীর কুমার ওঝা অভিযোগ করেছেন, দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটানো এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এই ৪৯ জন নাগরিক। তিনি এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে কঙ্গনা রনৌত, মধুর ভান্ডারকর, বিবেক অগ্নিহোত্রীর নাম উল্লেখ করেছেন। আদালত আগামী ৩ আগস্ট মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এবার জানা গেছে, অভিনেতা ও নির্মাতা কৌশিক সেন আর অনুরাগ কাশ্যপকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপর মোদিপন্থীদের কটাক্ষ করে অপর্ণা সেন বলেছেন, ‘এত ভয়! মাত্র ৪৯ জন চিঠি দিল, তাতেই দুটো প্রাণনাশের হুমকি চলে এল! আমার হাসি পাচ্ছে। তার মানে কোথাও গিয়ে তাদের আঁতে ঘা লেগেছে।’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার বক্তব্য চিঠিতে স্পষ্ট করে বলেছি। তাতে কার আপত্তি হলো, কে কী বলল, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। তারা আগে নিজেদের ঘর সামলাক।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়ে বিজেপি আর দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের রোষানলে পড়েছেন দেশের ৪৯ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। এর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করে দেশের ৬১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন পার্নো মিত্র, কাঞ্চনা মৈত্র, মিলন ভৌমিক, অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মধুর ভান্ডারকর, বিবেক অগ্নিহোত্রী, প্রসূন যোশী, সোনাল মানসিং, পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্টর প্রমুখ।

তাঁদের মতে, ‘দেশের একতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার জন্য এই চিঠি লিখেছেন দেশের ৪৯ জন “স্বঘোষিত অভিভাবক”। আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করার উদ্দেশে তাঁরা কাজ করছেন।’ তাঁরা আরও লিখেছেন, ‘মাওবাদী হামলায় যখন মানুষের মৃত্যু হয়, সিআরপিএফ জওয়ানদের প্রাণ যায়, তখন তাঁরা চুপ থাকেন। সন্ত্রাসবাদী হামলায় কাশ্মীরে যখন রক্ত ঝরে, তখন তাঁরা মুখ খোলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন দেশবিরোধী স্লোগান উঠেছে, তখনো তাঁদের কিছু বলতে শোনা যায়নি।’

এ পরিস্থিতে কবি শঙ্খ ঘোষ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে শুভ চিন্তাসম্পন্ন লোকজন চিঠিটা দিয়েছিলেন, সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে তার পালটা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে চিঠি গিয়েছে, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক স্বার্থে। প্রথম চিঠিতে বাংলার যাঁরা সই করেছিলেন, তাঁরা তো শুধু পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা নিয়ে কথা বলেননি, তাঁরা গোটা দেশে ঘটে চলা অনাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।’

গত শুক্রবার সকালে দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের টুইটারে লিখেছেন, ‘“দম মারো দম, বোলো সুবহ শাম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম…” চিরনতুন সেই গান কি আর গাইতে পারব?’

সুত্র : প্রথম আলো।

No comments:

Post a Comment