Saturday, July 27, 2019

নির্বাচনের খরচ দেওয়ার দাবিতে মোদিকে মমতার চিঠি

 

ভারতের নির্বাচনী সংস্কারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার মোদিকে তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠি দেন মমতা।

চিঠিতে মমতা বলেছেন, বিশ্বের ৬৫ দেশের মতো ভারত সরকারের উচিত নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে অর্থের জোগান দেওয়া। এতে দুর্নীতি কমবে বলে আশা করেন তিনি। এই দাবি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকারও আহ্বান জানান তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘দেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অপরাধ রুখতে নির্বাচনী সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও বিষয়টি ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে আমাদের দলীয় ইশতেহারে ছিল। বিশ্বের ৬৫টি দেশের মতো আমাদের দেশেও নির্বাচনে অর্থের ব্যবস্থা করা উচিত ভারত সরকারের।’

সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ আয়োজিত ‘নির্বাচনী খরচ ২০১৯’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার কথা উল্লেখ করে মমতা চিঠিতে লেখেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। ২০১৪ সালের দ্বিগুণ খরচ হয়েছে এবারের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার কোটি রুপি বা ৮৬ লাখ মার্কিন বিলিয়ন ডলার। অবশ্য প্রকৃত খরচ এর চেয়ে বেশি হয়েছে। খরচের প্রবাহ এভাবে বাড়তে থাকলে ২০২৪ সালে ভারতের পরবর্তী নির্বাচনে খরচ ১ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে।

মমতা বলেন, নির্বাচনী খরচে রাশ টানা না হলে দুর্নীতি ঠেকানো যাবে না। নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের খরচের সীমা নির্ধারণ করে দিলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলের এই খরচের সীমা নেই। তাই বিশ্বের ৬৫টি দেশের মতো ভারতেও নির্বাচনী খরচের জোগান দিক ভারত সরকার।

চিঠিতে লেখা হয়, অপ্রত্যক্ষভাবে ৭৯টি দেশে নির্বাচনী খরচের জোগান দেয় সে দেশের সরকার। জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, ইতালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেনের মতো দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি রাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্বাচনী খরচ পায়। আবার উন্নয়নশীল দেশ আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, হন্ডুরাস, কলম্বিয়াও রাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা পায়। তাই স্বচ্ছ নির্বাচন ও নির্বাচনে দুর্নীতি রোধের লক্ষ্যে রাষ্ট্র রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থের জোগান দিক।

No comments:

Post a Comment