Monday, September 9, 2019

হতাশ ফুলবাড়ীর কৃষকরা; খরার কবলে আমন খেত, সেচই একমাত্র ভরসা

আইসিটিনিউজ বিডি২৪:এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ফুলবাড়ীতে মাঠজুড়ে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। জমিতে নেই পানি। ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। বেশ কিছুদিন যাবত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরার কবলে পড়েছে আবাদি জমি। এ অঞ্চলের প্রধান ফসল রোপা আমন ধান। বন্যায় এ উপজেলায় দুই-একটি ইউনিয়ন আক্রান্ত হলেও আমনের তেমন ক্ষতি হয়নি। কৃষকরা সঠিক সময়ে জমিতে চারা রোপণ করেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪২০ জন কৃষকের মাঝে আমনের চারা বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ। তারা শুধুই একটু দেরিতে জমিতে চারা রোপণ করেছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে উপজেলায় আমনের আবাদ অর্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আমনের আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

একমাত্র ফসল রক্ষার্থে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৫৫০টি শ্যালো মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের সেচযন্ত্র বসিয়ে আমন খেতে পানি দিচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রোপণকৃত আমন খেতে পানি না থাকায় মরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় কৃষকরা শ্যালো মেশিন ও সেচযন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যা করলে দ্রুত বেড়ে উঠবে কচি আমন ধান গাছ। কৃষকরা সকাল বাধা উপেক্ষা করেও আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

কুরুষা ফেরুষা গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী মাস্টার ও গজেরকুটি গ্রামের রণজিত চন্দ্র রায় বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসেবে পরিচিত। এই ফসল আমরা যুগের পর যুগ ধরে বৃষ্টির পানি দিয়ে আবাদ করে আসছি। কিন্তু এখন আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। বাম্পার ফলনের আশায় বাধ্য হয়ে আমন খেতে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিচ্ছি। তারা আরো জানান, অনেক কৃষক ধার-দেনা করে হলেও আমনের বাম্পার ফলনের আশায় অতিরিক্ত খরচ বহন করে আমন খেতে পরিচর্যা করছেন। অথচ কৃষকরা ঘামঝরা কষ্ট করেও ধানের দাম থেকে বঞ্চিত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বেশ কিছুদিন যাবত্ উপজেলায় তাপদাহ বিরাজ করছে। তাই উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের আমন আবাদে সেচযন্ত্র চালুর পরামর্শ প্রদান করেছেন। চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আমনের চারা রোপণ করেছে। আমন খেতে পানি দিতে ৫৫০টি শ্যালো মেশিন ও সেচযন্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি দিচ্ছেন। আশাকরি সব বাধা পেরিয়ে এ বছরও আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment