Friday, September 13, 2019

শীর্ষ সন্ত্রাসী মুছার নেতৃত্বে পুলিশের উপর হামলা : নবীগঞ্জে ওসি ও এসআইকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত : আটক ৪

আইসিটিনিউজ বিডি২৪:

আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহ সোহান আহমেদ মুছা ও তার লোকজনের অতর্কিত হামলায় নবীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত উত্তম কুমার দাশ (৪০) ও এসআই ফখরুজ্জামান (৩৫) ও অপর দু’কনষ্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। আশংকাজনক অবস্থায় ওসি তদন্ত উত্তম কুমার দাশকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ছালামতপুর গ্রামের নিকট এ ঘটনাটি ঘটে। রাতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী মুছার বোনসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মুছাকে ধরতে পুলিশের সাড়াশি অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ছালামতপুর এলাকায় ব্র্যাক অফিসের নিকট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহান আহমেদ মুছার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দাঁড়ালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মুছাকে গ্রেফতার করতে ছালামতপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মুছার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীরা রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ ও এস আই ফখরুজ্জামানকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এ সময় আরো দুই পুলিশ কনেস্টেবল আহত হয়েছে।
পরে তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশংকাজনক অবস্থায় ওসি তদন্তকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর পুলিশ সদস্যদের নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, মুছা একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করতে অভিযান চালালে সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দুই কর্মকর্তাকে আহত করেছে। মুছাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসী মুছার পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে। প্রায় ২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে মুছাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথবাহিনী। এ সময় মুছার স্বীকারোক্তিতে ৫৬৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে দুর্ধর্ষ হয়ে উঠে মুছা :- ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারী মাসের শেষের দিকে ছাত্রলীগ নেতা হেভেনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুছাকে ওই হত্যা মামলার আসামী করা হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের পর থেকেই চরম বেপরোয়া হয়ে উঠে মুছা। এর পর থেকে সে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে নবীগঞ্জ শহরসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
অতি সম্প্রতি সে দিন-দুপুরে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের হীরা মিয়া গালর্স স্কুলের সামনে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে ৩টি দোকানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটসহ ৩টি মোটর সাইকেলসহ ৭ লাখ টাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর বিকালে মুছা শ্রমিক নেতা হেলাল আহমদের বাড়ির সীমানায় বেড়া দিয়ে ওই পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সুজিত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে মুছা ও তার পরিবারের সদস্যদের রোষানলে পড়ে। এক পর্যায়ে মুছাকে গ্রেফতার না করে ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুলিশ। মুছার সাম্প্রতিক সময়ের এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নবীগঞ্জ শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

No comments:

Post a Comment