Sunday, September 8, 2019

কোন্দল-দ্বন্দ্বে সাতক্ষীরার রাজনীতি।

আইসিটিনিউজ বিডি২৪:মাসুদ পারভেজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক গতি নেই। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনগুলো চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। ফলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। জেলা সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সাংগঠনিক কোনো তৎপরতা নেই।

জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং ও সমন্বয়হীনতায় হতাশায় দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া দলীয় এমপিরা গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বলয়। যে কারণে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন ত্রিমুখী হয়ে পড়েছে।
জেলার সাতটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৭-৮ বছর আগে।
 উপজেলা নির্বাচনে জেলার কয়েকটি উপজেলায় স্থানীয় এমপিরা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেন। ফলে বিরোধ আরও চাঙ্গা হয়। জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রয়েছে জেলা সভাপতির চরম বিরোধ।
 সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জেলাব্যাপী নিজস্ব একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ জানান, জেলা কমিটির মধ্যে  কোন্দল এখন নেই। নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে ভোট করা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। অচিরেই উপজেলা কমিটির কাউন্সিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই যখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রেক্ষাপট তখন অন্যদিকে  নেতৃত্বশূন্যতা বিএনপিতে জেলা বিএনপির রাজনীতি অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। জেলা কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলীয় কর্মকান্ডে  নিস্ক্রিয়তা, ৮-৯ বছর ধরে উপজেলা ইউনিটগুলোর কাউন্সিল না হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগে যোগদান  করায় দলে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে। ফলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকা  ও অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইফতেখার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে খুন হন জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আমানউল্লাহ আমান।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ রহমতউল্লাহ পলাশকে সভাপতি ও শেখ তরিকুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট জেলা বিএনপি কমিটির গঠন করা হয়। এরপর নেতা-কর্মীরা কিছু দিন নড়েচড়ে বসলেও দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই মেরুতে অবস্থান নেন। ফলে দলীয় কর্মকান্ডে  নতুন করে সংকট দেখা দেয়।
জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় গত ১০ বছরেও কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হয় জেলা কমিটি।
নিষ্ক্রিয় জাতীয় পার্টি, বসে নেই জামায়াত সরকারের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও ন্যাপের কোনো উল্লেখযোগ্য দলীয় কার্যক্রম নেই সাতক্ষীরায়। আর জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কার্যক্রম অনেকটাই নিস্ক্রিয়। বিশেষ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলের জেলা পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ভেঙে পড়েছেন। ’৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট  বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোটের দিক থেকে সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের পরেই জাতীয় পার্টির অবস্থান।
আর বিএনপির অবস্থান চতুর্থ। জেলায় জামায়াতের প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও দলটি সাতক্ষীরায় বেশ শক্তিশালী। সরকারের চাপে প্রকাশ্যে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই।
তবে তারা গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতা ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

No comments:

Post a Comment