Tuesday, October 29, 2019

কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনঃ ৬ শ্রমিক, দুটি ড্রেজার ও চারটি নৌকা আটক। আইসিটিনিউজ বিডি২৪

আইসিটিনিউজ বিডি২৪: শেখ সাহেদ মিয়াঃ অব্যাহত রয়েছে কুশিয়ারা নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন । প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক এবং বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের কাছে কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপটে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলননে জড়িত ৬ শ্রমিককে আটক করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
একই সাথে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২টি ড্রেজার ও ৪টি নৌকাও আটক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই অভিযান পরিচালনা করেন সোমবার দুপুরে। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে মডেল থানা নিয়ন্ত্রিত শেরপুর ফাঁড়ির পুলিশ।
জানা যায়, একটি বিশেষ মহল দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কুশিয়ারা নদীর সদর উপজেলা অংশ বাহাদুরপুর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ খবর পেয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি’র) নেতৃত্বে গতকাল দুপুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারে কাজ করা ৬ শ্রমিককে আটক করা হয়।
এ সময় বালু উত্তোলন বন্ধ করে মায়ের দোয়া বাবার আদর, মক্কা মদিনা নামে ২টি ড্রেজার ও জুনাঈদ পরিবহণ, আলী পরিবহণ, নৌসান পরিবহণ এবং এমবি এম এন পরিবহণ নামে ৪টি নৌকা আটক করা হয়।
আটককৃত হল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবু সাঈদ, কান্ত মিয়া, বগুড়ার নীরু মিয়া, নারায়ণগঞ্জের রাকিব মিয়া, কিশোরগঞ্জের আব্দুস সালাম ও আব্দুল তৌহিদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যারা ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টায় নাম পরিচয় জেনে বালু খেঁকোদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। ফলে আটক করা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিলম্ভ হচ্ছে।
মডেল থানা নিয়ন্ত্রিত শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব্বির আহসান ৬ ড্রেজার শ্রমিকসহ ২টি ড্রেজার ও ৪টি নৌকা আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে একাধিক খননযন্ত্রের সাহায্যে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে । এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টসহ  এলাকার পাহাড়পুর,পারকুল বনগাঁও ও ব্রাম্মনগ্রামের শেরপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধসে পড়ার আশংকার মধ্যে রয়েছে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এবং শেরপুর সেতু ।
মৌলভীবাজারের এসিল্যান্ড সঞ্জিত কুমার দে জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িত আটক করা শ্রমিক এবং ড্রেজার ও নৌকার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নে কার্যক্রম চলছে।

No comments:

Post a Comment