Tuesday, October 1, 2019

প্রতি সেক্টরে দুর্নীতি; সোনার বাংলা গঠনের প্রধান অন্তরায় | আইসিটিনিউজ বিডি২৪

আইসিটিনিউজ বিডি২৪: আরিফুল্লাহ নূরী,বিশেষ প্রতিনিধি: এদেশের সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবাজ নয়। দুর্নীতি তাদেরই হাতে, যাদের কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতা আছে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা। এই ক্ষমতা যাদের হাতে আছে তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিবাজ হতে পারে। মূলত: যার যত বড় ক্ষমতা আছে, সে ততবড় দুর্নীতিবাজ।

সম্প্রতিকালে এই ‘দুর্নীতি’ একটি বহুল আলোচিত শব্দ। নিজ স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, অর্থ আত্নসাৎ, ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়, প্রতারণা, প্রভাববিস্তার, স্বজনপ্রীতি, সম্পদের অপব্যবহার, সরকারি ক্রয়-বিক্রয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকে মূলত: আমরা দুর্নীতি বলে থাকি।
এছাড়া কখনো দারিদ্র্যের কারণে, কখনো লোভের বশবর্তী হয়ে, আবার কখনো দুর্নীতি করার সুযোগ আছে কিন্তু শাস্তির সম্ভাবনা নেই, এইরূপ কারণেই মূলত আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত হই। এদেশে শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্বয়ে বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অসততার কারণেও এই দুর্নীতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশেসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে দুর্নীতি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে দুর্নীতি আজ উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। সরকারি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। বর্তমানে ঘুষ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেন, এটা সকলের বেতনের অংশে পরিণত হয়েছে। ঘুষ না পেলে সরকারি অফিসের কর্মকর্তা কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি টেন্ডার গৃহীত হয় না, ফাইল নড়ে না, প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না, ফলে দেশের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে-দুর্নীতি যেন প্রশাসনযন্ত্রের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক অনুন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাড়ছে অস্থিরতা। স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারছে না। দেখা দিচ্ছে সুশাসনের অভাব। বর্তমানে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণদানের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত আরোপ করছে তার মধ্যে জবাবদিহিতা ও সুশাসন অন্যতম। বর্তমানে দুর্নীতি রোধ ছাড়া সুশাসনের পথ প্রশস্ত করার আর কোনো উপায় নেই।
একটি দেশের জাতীয় উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে এই দুর্নীতি। একটি দেশের জাতীয় উন্নয়ন বলতে আমরা বুঝি, ঐদেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত ইতিবাচক উন্নয়ন। বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরের এই দুর্নীতির ফলে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হচ্ছে না, সম্পদের প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে “ধর-মার-খাও” ভাব বিরাজ করছে।
এর ফলে সরকার, রাষ্ট্র তথা দেশের আপামর জনগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এদেশের সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী নিজ নিজ ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করছে, ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। বর্তমানে এই দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে এদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নাগরিক সংবর্ধনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হওয়ার একমাত্র বাধা হিসেবে দুর্নীতিকে বিশেষভাবে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে তা যদি পরিপূর্ণভাবে ব্যয় হতো, তাহলে দেশের সামগ্রিক চিত্র পরিবর্তন হয়ে যেতো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকলকে উদ্দেশ্যে করে আরো বলেন, মাদকের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেবে সরকার। একমাত্র স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন আরো বেগবান হবে।
দেশের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করলে আমার মনে হয়, সর্বনিম্ন একজন উপ টিকাদার থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত জবাবদিহিতা সম্পূর্ণরুপে নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিশেষ নজরদারি থাকা আবশ্যক হতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের বিধান অচিরেই কার্যকর করতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করলেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস, বিনির্মাণ হবে স্বপ্নের সোনার বাংলা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা দেশের সকল জনসাধারণের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে একমাত্র অন্তরায় দেশের প্রতিটি সেক্টরে সেক্টরে দুর্নীতি। সকল সেক্টরে জবাবদিহিতা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারলেই বিনির্মাণ হবে সোনার বাংলা। গঠিত হবে দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর স্বদেশ।

No comments:

Post a Comment