Sunday, October 13, 2019

নাচোলে বিভিন্ন আয়োজনে ইলামিত্রের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। আইসিটিনিউজ বিডি২৪

আইসিটিনিউজ বিডি২৪: মোঃ মনিরুল ইসলাম, নাচোল-(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের রানীমাতা খ্যাত তেভাগা আন্দোলনের বীরাঙ্গনা নেত্রী ইলামিত্রের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ রোবিবার বিকেল ৩টায় উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কেন্দুয়া কেন্দুয়া পঞ্চানন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত ইলামিত্র স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গনে ইলামিত্র সংসদ নাচোল শাখার আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম।
স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইলামিত্র সংসদের সভাপতি বিধান সিং। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নাচোল সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক আল্লামা আকবর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড.মইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এম.মজিদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর কামাল, পৌর বিএনপির সাদারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, রহনপুর পৌর মেয়র তারেক রহমান, সদ্য প্রকাশিত “ইলামিত্র ও নাচোল”বই এর লেখক ও প্রকাশক আলাউদ্দিন আহাম্মেদ বটু, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা। অন্যানের মাঝে উপস্তিত ছিলেন বরেন্দ্র দোগাছী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাউসার আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ওবায়েদ পাঠান ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। আলোচনা শেষে নাচোল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নূরুল ইসরাম বাবু ও ইলামিত্র সংসদের সভাপতি বিধান সিং ইলামিত্রের স্মৃতিবিজড়িত নাচোলের উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এবং জেরা প্রশাসকের প্রতিনিধি নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে অতিথিবৃন্দ সদ্য প্রকাশিত “ইলামিত্র ও নাচোল” বই এর মোড়ক উন্মোচন করেন।  
  
উল্লেখ্য,তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে স্বাধিকার আন্দোলনের শুরুতে দেশের বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে জমিদারদের সাথে জমিতে উৎপাদিত ফসলের হিস্যা(অংশ) নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকায় জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের সাথে নিজ নিজ প্রাপ্য অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধ মিমাংশা করে দেন জমিদারের স্ত্রী রানীমাতা ইলামিত্র। যেটি তেভাগা আন্দোলন নামে পরিচিত।

তৎকালীন নাচোল থানার বরেন্দ্র এলাকার জমিদার শ্রী রমেন মিত্রের স্ত্রী ইলামিত্র বর্গাচাষীদের(বেশীর ভাগ সাঁওতাল আদিবাসী) জমিতে উৎপাদিত ফসলের হিস্যা(অংশ) তিনভাগে ভাগ করে দেন। একভাগ জমির মালিক, একভাগ বর্গা চাষীর ও একভাগ ফসলের উৎপাদন খরচ। যিনি উৎপাদন খরচ বহন করবে তিনিই ওই একভাগ পাবেন। এমন বন্টন নীতি তিনি চালু করেছিলেন। ওই তেভাগা(তিনভাগা) নীতিতে জমির মালিক পক্ষ ইলামিত্রের উপর ক্ষুব্ধ হয়। সাথে সাথে পাকিস্তান সরকারের পুলিশও দেশদ্রহীতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী করে। ইতিহাসবিদদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার রহনপুরে ইলামিত্র ভারতে যাবার পথে পুুলিশের হাতে আটক হন। পাকিস্তান পুলিশ ইলামিত্রকে থানায় নির্যাতন করে। পরে পূর্ব বাংলার হিন্দু আদিবসীদের নিকট তেভাগা আন্দোলনের বীরাঙ্গনা নেত্রী ইলামিত্র নাচোলের রানীমাতার আসনে অধিষ্ঠিত হন।
ইলামিত্র সংসদ নাচোল শাখা প্রতিবছর ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাচোলের রানীমাতা ইলামিত্রের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছে।

No comments:

Post a Comment