Gallery

Advertisement

Main Ad

Travel

Technology

শিক্ষাক্ষেত্রে দূর্ণীতি রোধে জাতীয়করণ প্রয়োজন। আইসিটিনিউজ বিডি২৪

আইসিটিনিউজ বিডি২৪: প্রদীপ কুমার দেবনাথ:

  • চারদিকে আজ স্লোগান উঠেছে,
  • “দূর্ণীতি রুখবো, সোনার বাংলা গড়বো। “
কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযানও শুরু হয়েছে। সাধুবাদ জানাই এই শুভ উদ্যোগকে। বর্তমান বিশ্বে নিজেদেরকে সভ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিত করতে দূর্ণীতি রোধের বিকল্প নাই। হটাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠা দু’পা, দু’হাতওয়ালা প্রাণীদের দূর্ণীতির মাধ্যমে গড়া বিপুল অর্থ ও আভিজাত্য আজকের বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে।
অন্যান্য বিভাগের মতো শিক্ষা বিভাগেও দূর্নীতি কম হচ্ছেনা। বিশেষ করে  মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও উচ্চশিক্ষা স্তরে পদে পদে দূর্নীতি আমাদের শিক্ষা বিভাগের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে।
পিয়ন থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পর্যন্ত নিয়োগে ২ লক্ষ থে ১৫ লক্ষ টাকা লেনদেন বর্তমানে এক অলিখিত সিস্টেম। ফলে মেধাবীরা সহকারী প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক খুব কমই চাকরি পায়। ধনী এবং বাজে লোকটি প্রশাসনিক পদে আসীন হয়ে অল্প দিনে অধিক টাকার মালিক হওয়ার বাসনায় কারণে – অকারণে বড় বড় ভাউচার তৈরি শুরু হয় এবং বিভিন্ন উন্নয়নের নামে বিদ্যালয়ের ফান্ড খালি করা হয়। এতে ভাগ থাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তো আছেই। এগুলো সম্ভব হয় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে। অব্যাহত এসব দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যেসকল শিক্ষকরা অবস্থান নেয়, তারা প্রধান শিক্ষকের রোষানলে পরে। পরবর্তীতে চক্রান্ত করে সৎ ও আদর্শবান শিক্ষকগণের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ প্রস্তুত করে মিথ্যা হয়রানি ও চাকরীচ্যুত করার অপচেষ্টাও করা হয়। এতে বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। দলাদলি, কোন্দল, হিংসা – বিদ্বেষ ইত্যাদি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে আয় – ব্যয়ের সঠিক হিসাব না থাকায় ব্যাপক লুটপাট হয় এবং প্রতিষ্ঠানে অনৈক্য, বিশ্বাসহীনতা ব্যাপক রুপ লাভ করে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি দূর্নীতিবাজ থাকে বলে শিক্ষকরাও প্রাইভেট, কোচিংয়ে লিপ্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাঠ থেকে বঞ্চিত হয়। যেহেতু, দরিদ্ররা প্রাইভেট পড়তে পারেনা তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত হয়ে এক পর্যায়ে ঝড়ে পড়ে। এছাড়াও দূর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতির পছন্দের দু’তিনজন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এবং অন্য শিক্ষকদের মাঝে চরম হিংসা – বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এইসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কারণ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনেকে ভিন্নমতের দলের নেতা-কর্মীর সন্তান হিসেবে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীরা এসব অনুধাবন করে এবং ঐ শিক্ষকদের, সদস্যদের প্রতি নেগেটিভ মন-মানসিকতার সৃষ্টি হয়।
তাছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বলে ক’দিন পর পর অডিটের নামে শিক্ষকদের নিকট থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার মতো হয়রানি তো আছেই। বিভিন্ন শিক্ষা অফিস ( উপজেলা, জেলা, ডিডি, বোর্ড) ইত্যাদিতে সেলামী তো আছেই।
এ সমস্ত দূর্ণীতি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতকে দূর্বল করে দিচ্ছে। অথচ, জাতীয়করণ হলে এর কোনটাই স্পর্শ করতে পারতনা জতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে। থাকতনা স্থানীয় রাজনীতির কালো ছায়া, কারো উপর বিষাক্ত ছোবল পড়তনা। ফলে শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফল শিক্ষাব্যবস্থা জাতিকে উপহার দেয়া যেত। তাই, জাতীয়করণ ঘোষণার মাধ্যমে সমগ্র বেসরকারি শিক্ষাকে প্রানবন্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষাক্ষেত্রে দূর্ণীতি নির্মূলে জাতীয়করণের বিকল্প নেই। দেশের সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি ব্যাপক উন্নয়নে এখনই জাতীয়করণ করা অত্যধিক প্রয়োজন।
প্রদীপ কুমার দেবনাথ,
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Sports

Delivered by FeedBurner